সোমবার , ২২ মে ২০২৩ | ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ঈশ্বরদী
  5. করোনাভাইরাস
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. গল্প ও কবিতা
  10. চাকরির খবর
  11. জাতীয়
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. তারুণ্য
  14. ধর্ম
  15. নির্বাচন

ঈশ্বরদী ইপিজেডে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকায় রপ্তানি আয় বাড়ছে

প্রতিবেদক
আমাদের ঈশ্বরদী রিপোর্ট :
মে ২২, ২০২৩ ৫:৩১ অপরাহ্ণ

পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে ঈশ্বরদী ইপিজেড। রপ্তানি বিবেচনায় দেশের আটটি ইপিজেডের মধ্যে ঈশ্বরদী ইপিজেডের অবস্থান সপ্তম। গত অর্থবছরে এ ইপিজেডে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (বেপজা) কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঈশ্বরদী ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১২৫ জন। এর মধ্যে নারী ১২ হাজার ১৭২ ও পুরুষ ৪ হাজার ৯৫৩ জন। এ ছাড়াও ৭৬ জন বিদেশি নাগরিক কর্মরত।

ঈশ্বরদী ইপিজেডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিজস্ব একটি সাব-স্টেশন আছে। পানি ও গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থাও শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যাটারি, প্রক্রিয়াজাত প্লাস্টিক, অ্যাগলোমারেট, টেক্সটাইল কেমিক্যাল, প্লেন পলি, রেডিমেড গার্মেন্ট, ক্রাফট, হেয়ার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্লাভস, গার্মেন্ট এক্সেসরিজ ও অন্যান্য বায়োকেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন হচ্ছে ঈশ্বরদী ইপিজেডের কারখানাগুলোয়।

তা ছাড়া ঈশ্বরদী ইপিজেড থেকে প্রতি বছর পণ্য রপ্তানির পরিমাণ বাড়ছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত প্রথম ৯ মাসে এ ইপিজেড থেকে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১৫৭ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১ হাজার ৬৫৬ দশমিক ৪৮ কোটি টাকার।

অথচ ২০২১-২২ অর্থবছরের পুরো সময়ে ঈশ্বরদী ইপিজেড থেকে মোট ২০৯ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার বা ২ হাজার ১৯৫ কোটি সমমূল্যের পণ্যসামগ্রী রপ্তানি হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি হয় ১৫৯ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকার।

তা ছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৩১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫০ দশমিক ২২ মিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১২৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ৩১৮ কোটি টাকার পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।

বেপজার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নাজমা বিনতে আলমগীর বলেন, ঈশ্বরদী ইপিজেডে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বেপজার নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। প্রতিটি কারখানা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা সদস্য নিযুক্ত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এ ছাড়া পুরো জোন ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে। বেপজা কর্তৃক কারখানাসমূহে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। ঈশ্বরদী ইপিজেডের রপ্তানির সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক ও সংশ্লিষ্ট খাত থেকে। গত অর্থবছরে ঈশ্বরদী ইপিজেডে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৩০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন, সার্বিক বিবেচনায় ঈশ্বরদী ইপিজেডের বর্তমান অবস্থা ভালো। আগামী বছরগুলোয় ঈশ্বরদী ইপিজেড থেকে পণ্য রপ্তানির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ঈশ্বরদী ইপিজেডে ২১টি কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১২টিই বিদেশি। বাস্তবায়নাধীন ২০টি প্রতিষ্ঠান। ৩২৪টি প্লটের সবগুলোই চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব লিড প্লাটিনাম সনদপ্রাপ্ত গ্রিন ফ্যাক্টরি মেসার্স ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও লিমিটেড (আভা গ্রুপ) ঈশ্বরদী ইপিজেডের অন্যতম একটি বাংলাদেশি তৈরি পোশাক কোম্পানি। ঈশ্বরদী ইপিজেডের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে। গতিশীল হয়ে উঠছে স্থানীয় অর্থনীতি।

জানা গেছে, বাংলাদেশসহ চীন, হংকং, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মার্শাল আইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এ ইপিজেডে তাদের কারখানা গড়ে তুলেছে। ঢাকা শহর থেকে ২২০, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে ১০, রাজশাহী বিমানবন্দর থেকে ১১০, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮৪ ও মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৮০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। দেশের বৃহত্তম রেল সেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ খ্যাত পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীর পদ্মার তীরে ৩০৮ দশমিক ৯৭ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা।

১৯৯৬ সালে এ ইপিজেডের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০০১ সালের ১৩ জানুয়ারি এটির উদ্বোধন হওয়ার পর শুরু হয় পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি। স্বল্পমূল্যে শ্রমিক সুবিধা, রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ এবং কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের পছন্দের তালিকায় স্থান পায় ঈশ্বরদী ইপিজেড। বাড়তে থাকে কারখানার সংখ্যা ও পণ্য উৎপাদন।

সর্বশেষ - ঈশ্বরদী

error: Content is protected !!