শুক্রবার , ৬ জানুয়ারি ২০২৩ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ঈশ্বরদী
  5. করোনাভাইরাস
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. গল্প ও কবিতা
  10. চাকরির খবর
  11. জাতীয়
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. নির্বাচন
  14. পাবনা
  15. ফিচার
Ticker news is only displayed on the front page.

যুবলীগ সভাপতির নির্দেশে রিকশাচালককে গুলি

প্রতিবেদক
বার্তা কক্ষ
জানুয়ারি ৬, ২০২৩ ১:৪০ অপরাহ্ণ
যুবলীগ সভাপতির নির্দেশে রিকশাচালককে গুলি

ইপিজেড কর্মীবাহী ভটভুটি ও লেগুনার মধ্যে দুর্ঘটনা এবং জরিমানা নিয়ে তর্কাতর্কিতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ও গুলি করার নির্দেশ দেন পাবনার ঈশ্বরদীর ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন। তার নির্দেশ পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে মামুনকে সরাসরি গুলি চালান কামালের ভাই আনোয়ার উদ্দিন। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হোন রিকশাচালক মামুন হোসেন।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রকি হোসেন ও সুমন হোসেন নামে আরও দুজন আহত হন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি কামাল উদ্দিন (৪৮) ও তার সহযোগী মো. হৃদয়কে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।


চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) দিনগত রাত দেড়টার দিকে নিহত মামুনের মা লিপি খাতুন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন আনোয়ার হোসেন, ইব্রাহিম হোসেন, পৌরসভার কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন ও হৃদয় হোসেন।


শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পাবনার চাঁদমারিস্থ ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-২, পাবনার কোম্পানি কমান্ডারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১২, সিপিসি-২, পাবনার কোম্পানি কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার মো. তৌহিদুল মবিন খান। এসময় স্কোয়াড কমান্ডার সিনিয়র এএসপি কিশোর রায়সহ র‌্যাব কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃত কামাল উদ্দিন ঈশ্বরদীর শৈলপাড়া ১২ কোয়ার্টারের বাসিন্দা মৃত নূর উদ্দিনের ছেলে এবং মো. হৃদয় একই এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে। কামাল উদ্দিন ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি এবং হৃদয় একই ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সভাপতি। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন এখনও পলাতক রয়েছে।

মো. তৌহিদুল মবিন খান বলেন, মূলত ভটভুটি ও লেগুনার মধ্যে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়। সেই ঘটনায় কামাল উদ্দিন ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ও গুলির নির্দেশ দেন। তার নির্দেশের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ভাই আনোয়ার হোসেন কোমরে থাকা পিস্তল বের করে মামুন ও রকিকে গুলি করেন। এসময় আনোয়ারের সঙ্গীরা সুমনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে রেলের তেল চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। হৃদয়ও একাধিক মামলার আসামি। তাদেরকে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর আনোয়ারসহ বাকি অভিযুক্তদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত ৯টার দিকে ঈশ্বরদীর রেল গেটের পাশে কাচারীপাড়ায় ঈশ্বরদী ইপিজেড থেকে আসা দ্রুততগামী ভটভুটি ও লেগুনা সংঘর্ষ হয়। এসময় রিকশাচালক মামুনসহ স্থানীয়রা চালকদের বেপরোয়া গতিতে চলাচলে নিষেধ করে। এঘটনায় লেগুনা চালাক ভটভুটির চালকের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কর্তাতর্কি হয়।

পরে ফিরে গিয়ে লেগুনার মালিক কামাল ও আনোয়ারকে জানালে তারা ক্ষুব্ধ হোন এবং আনোয়ার হোসেন তার দলবল নিয়ে স্থানীয়দের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে আনোয়ার তার কোমরে থাকা পিস্তল বের করে সেখানে থাকা মামুন ও রকিকে গুলি করে এবং সুমনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং গুলিবিদ্ধ রকি ও ছুরিকাঘাতে আহত সুমনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহত মামুন হোসেনের মা লিপি খাতুন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ্য ও অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন। মামলাটিতে কামাল উদ্দিনকে প্রধান আসামি ও তার সহকারী আনোয়ার হোসেনকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।

সর্বশেষ - ঈশ্বরদী

<p>দুঃখিত,এই ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি কপি করা নিষিদ্ধ</p>