প্রথম সন্তানের মৃত্যুর ঘটনাটি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের ছাত্রী ছিলেন মেয়ে সনি খাতুন (৩০)। অপারেশনের চার দিন পর মারা যান তিনি। সনির মৃত্যুর সেই শোক এখনো ঠিকমতো কাটিয়ে উঠতে পারিনি তাঁর বাবা ও মা। এরই মধ্যে আজ শনিবার ট্রেনে কাটা মারা যান একমাত্র সন্তান হাসানুজ্জামান ইমতিয়াজ। সন্তানদের হারিয়ে নিস্তব্ধ হয়েছেন ঈশ্বরদী শহরের পেয়ারাখালি গ্রামের ইসহাক আলী প্রামানিক ও তাঁর স্ত্রী।
এর আগে সকাল শনিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে নাটোরের লালপুরের আব্দুলপুর জংশন স্টেশন প্লাটফর্মে যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান একমাত্র সন্তান হাসানুজ্জামান ইমতিয়াজ। সন্ধ্যায় পাবনার ঈশ্বরদী শহরের পেয়ারাখালি গ্রামে জানাজা শেষে তাঁকে করব দেওয়া হয়।
ট্রেনটি আবদুলপুর রেলজংশনের প্লাটফর্মে দাঁড়ালে ইমতিয়াজ পুরি খাওয়ার জন্য ট্রেন থেকে নামেন। পুরি খাওয়ার সময় ট্রেনটি ছেড়ে দিলে দৌড়ে ট্রেনের হাতল ধরে ওঠার চেষ্টা করেন। তবে এ সময় হাত পিছলে যাওয়ায় আরিফুল ট্রেনের নিচে পড়ে যান। ট্রেনটি প্লাটফর্ম ছেড়ে যাওয়ার পর লোকজন তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পেয়ারাখালি গ্রামে নিহত ইমতিয়াজের বাড়িতে নেমেছে মানুষের ঢল। ইমতিয়াজের মরদেহ দেখে অনেকেই অশ্রু সিক্ত নয়নে ফিরে যান। গোসল শেষে খাটিয়ার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে ইমতিয়াজের মরদেহ। বিদায় বেলা এক নজর দেখতে ভিড় করছেন মানুষ। একটু দূরে ছেলে হারানোর ব্যথায় চিৎকার করে কাঁদছেন বাবা পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী ইসহাক আলী প্রামানিক। একটু পরপরই শুধু চিৎকার করছেন আর বলছেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমার সব শেষ, আমি কারে নিয়ে থাকব, মেয়ে গেল, এখন আবার তুই গেলি বাবা।
পাশেই শোকে নিস্তব্ধ মা। কান্নার ভাষা যেন হারিয়ে পাথর হয়ে গেছেন তিনি। খানিক পরপর শুধু ডুকরে কাঁদছেন। দেড় বছরের ব্যবধানে দুই সন্তানকে হারানো বাবা-মার আহাজারি থামানোর চেষ্টা করছিলেন প্রতিবেশী ও স্বজনেরা।
ফেরদৌস শেখ নামে তাদের এক স্বজন বলেন, ইছাহক আলীর মাত্র দুইটিই সন্তান ছিল। এর মধ্যে সনি খাতুন মারা যায় দেড় বছর আগে। আজ আবার ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেল একমাত্র সন্তান ইমতিয়াজ। ওই পরিবারের এখন আর কোনো সন্তান থাকল না। এটি অনেক বেশি কষ্টের। এই শোক বাবা-মা কেমন করে সহ্য করবেন বুঝে পাচ্ছি না।
কান্না জড়িত কণ্ঠে নিহত ইমতিয়াজের বাবা বলেন, ‘স্টেশনে ট্রেন যখন ছেড়ে দিছে, ও তখন দৌড়ায় ট্রেনে উঠছিল। আমি ছেলেকে বললাম তুই উঠিস না বাবা! পড়ে যাবি, পড়বি-পড়বি নিষেধ করতেই সব শেষ হয়ে গেল।
আর পড়ুন :
ঈশ্বরদী-ট্রেনে উঠতে গিয়ে বাবার সামনে প্রাণ গেলো বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের