মঙ্গলবার , ১০ অক্টোবর ২০২৩ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ঈশ্বরদী
  5. করোনাভাইরাস
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. গল্প ও কবিতা
  10. চাকরির খবর
  11. জাতীয়
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. তারুণ্য
  14. ধর্ম
  15. নির্বাচন

অযত্ন-অবহেলায় হারানোর পথে ঈশ্বরদী ললিতকলা একাডেমি

প্রতিবেদক
আমাদের ঈশ্বরদী রিপোর্ট :
অক্টোবর ১০, ২০২৩ ১০:১৫ অপরাহ্ণ

পাবনার ঈশ্বরদীতে সংগীত প্রশিক্ষন ও অনুশীলনের একমাত্র প্রতিষ্ঠান ‘ঈশ্বরদী ললিতকলা একাডেমি’। পৌর শহরের মুল ফটক রেলওয়ে ওভারব্রিজের উত্তর পাশেই অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ ললিতকলা একাডেমি। এক সময় যেখানে সকাল-বিকাল সংগীত প্রশিক্ষন, নাচ প্রশিক্ষনসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রায় অধিকাংশ অনুশীলন করা হতো সেখানে এখন বসবাস জীব-জন্তুর। নানা অব্যবস্থাপনা, অযত্ন-অবহেলা ও রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব। দীর্ঘ সময় ধরে দরজা তালাবদ্ধ, একাডেমি ভবনেরও বেহাল দশা। স্থানীয়দের ফেলা ময়লার স্তুপে যেন ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে ললিতকলা একাডেমির চারপাশ। একাডেমি দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কোন জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী ললিতকলা একাডেমি। এক সময়কার প্রানচাঞ্চল্য এ ললিতকলা একাডেমির জৌলুশতা ফিরিয়ে এনে সংগীত প্রশিক্ষন ও অনুশীলনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ চেয়েছে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে প্রয়াত সাংবাদিক মহসিন রিয়াজী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ১০০ বছরের লিজ নিয়ে ১ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন ঈশ্বরদী ললিতকলা একাডেমি। সে সময় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী এ ললিতকলা একাডেমির উদ্ধোধন করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ১২০ জন প্রশিক্ষক এসে এ একাডেমিতে চারশত ছাত্র-ছাত্রীদের সাংস্কৃতিক শিক্ষা দিতেন। সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এক লক্ষ টাকা ব্যায়ে ঈশ্বরদী ললিতকলা একাডেমি সংস্কার করা হয়। এ ললিতকলা একাডেমি থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে ঈশ্বরদীর অনেকেই দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ভুমিকা রাখছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ললিতকলা একাডেমির প্রবেশ পথে বৃষ্টির পানি জমে যাতায়াতের অনুপযোগী। অযত্ন-অবহেলার স্পষ্ট ছাপ কেবল মাত্র বন্ধ দরজার মরিচাধরা তালা আর ভাঙ্গাচোরা জানালাগুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছে। একডেমি ভবনের চরপাশের প্রাচীর আগাছায় ছেয়ে গেছে, আশেপাশের ফেলা ময়লার স্তুপে বোঝার উপায় নেই এটি কোন ঐতিহ্যেবাহী ললিতকলা একাডেমি। ভবনের দেয়াল ও সামসেটের পলেস্তারা খসে মরিচাযুক্ত রড বের হয়ে আছে। উপরের টিনের ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে একাকার ভিতর অংশ। নৃত্য পরিবেশনের মঞ্চের কাঠ ও বাটাম পচে তা ব্যবহারের অনুপযোগী। ঝুল আর ময়লা জমে পচা দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে একাডেমির রুমগুলোতে। সঠিক নেতৃত্বের অভাবেই বেহাল দশা একসময়কার প্রানচঞ্চল্য এ ললিতকলা একাডেমির এমন টাই বলছেন স্থানীয়রা।

ঈশ্বরদী ললিতকলা একাডেমি থেকে গিটার ও গান শিখেছেন কলেজ পাড়া এলাকার সোহান নূর সোহান। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, একসময়কার প্রানচাঞ্চল্যকর ললিতকলা একাডেমি এখন নির্জীব এটা মেনে নিতে কষ্ট হয়। যে প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় সংগীত প্রশিক্ষন ও অনুশীলন করেছি সে প্রতিষ্ঠান নানা অবহেলায় আজ হারানোর পথে। ঈশ্বরদী ললিতকলা একাডেমি ঈশ্বরদীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে টিকিয়ে রাখার একমাত্র ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। সে প্রতিষ্ঠান যদি এভাবে বন্ধ হয়ে যায় তবে একদিকে ঈশ্বরদী যেমন সাংস্কৃতি থেকে পিছিয়ে পড়বে অন্যদিকে বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরাও সাংস্কৃতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। ললিতকলা একাডেমিটি সংস্কার করে পুনরায় সাংস্কৃতিক শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি ১৯৮০ সাল থেকে এই একাডেমি তে গান শিখাচ্ছি। একটা সময় ছিল যখন এ প্রতিষ্ঠানে সকাল-বিকাল সাংস্কৃতিক শিক্ষা ও চর্চা হয়েছে। এখান থেকে গান, বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্য শিখে অনেকেই আজ দেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডে কাজ করছেন। আমার বেশ কিছু ছাত্র দেশের বাইরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে রয়েছে। কিন্তু আগের ললিতকলা একাডেমি আর এখনকার একাডেমির কোন মিল নেই। ঐতিহ্যবাহী এ ললিতকলা একাডেমির অস্তিত্ব এখন হারানোর পথে। আমরা চাই এ একাডেমি আবার আগের মত জৌলুসতা ফিরে পাক। আমরা আবার এ একাডেমিতে সংগীত শিখাতে চাই, বাঁচিয়ে রাখতে চাই ঈশ্বরদী সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে।

একাডেমির গিটার প্রশিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম তরুন বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর যাবত এ ললিতকলা একাডেমিতে যাতায়াত করছি। আমি এ একাডেমি থেকে গিটার শিখেছি আবার এ একাডেমিতেই ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের গিটার বাজানো শিখিয়েছি। অনেক সৃতি জড়িয়ে আছে এ প্রতিষ্ঠানে। ভালোবাসার টানে এখনও ছুটে যাই একাডেমিতে। তবে একাডেমির ভগ্নদশা দেখে মেনে নিতে খুবই কষ্ট হয়। ঈশ্বরদী ললিতকলা একাডেমি এতটাই ঐতিহ্যবাহী ছিল যে এন্ড্রু কিশোর, সুবীর নন্দী, খোরশেদ আলম, ফরিদা পারভিন(লালন) এর মত জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পীরা এসেও এখানে প্রশিক্ষন দিয়েছে। কিন্ত সময় আর উদ্যেগের অভাবে জনপ্রিয় ঈশ্বরদী ললিতকলা একাডেমি আজ হারানোর পথে।

ঈশ্বরদী ললিতকলা একাডেমি কমিটির সাধারন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম লিটন বলেন, অনেকদিন যাবত একাডেমিতে আর আগের মত সংগীত প্রশিক্ষন ও অনুশীলন করা হয়না। আমরা ইতিমধ্যে কমিটির লোকজন বসে একাডেমি পুনরায় চালু করার ব্যাপারে কথা বলেছি। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এ ললিতকলা একাডেমি সংস্কার করে আবার আগের মত সাংস্কৃতিক শিক্ষা ও প্রানচাঞ্চল্যতা ফিরিয়ে আনবো।

পাকশি বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ বলেন, ললিতকলা একাডেমি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে একাডেমি কমিটির লোকজন যদি তাদের দাবি নিয়ে সেটি পূনরায় চালুর আবেদন জানিয়ে দরখাস্ত দেন তাহলে খোঁজখবর নিয়ে চালুর ব্যাবস্থা করবো।

পাকশি বিভাগীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভু-সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের পাশে রেলের জমির উপর ললিতকলা একাডেমি নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি রেলের আওতাধীন কিনা এটা সঠিক আমার জানা নেই বা সংস্কারের জন্যও কেউ এ পর্যন্ত কোন যোগাযোগও করেনি। খোঁজখবর নিয়ে যদি দেখি রেলের আওতাধীন কোন প্রতিষ্ঠান তবে সেটা চালুর ব্যবস্থা করা হবে।

সর্বশেষ - ঈশ্বরদী

error: Content is protected !!