বুধবার , ৫ এপ্রিল ২০২৩ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. 1w
  2. 1Win AZ Casino
  3. 1win Brazil
  4. 1winRussia
  5. mostbet tr
  6. অর্থনীতি
  7. আইন ও আদালত
  8. আন্তর্জাতিক
  9. ঈশ্বরদী
  10. করোনাভাইরাস
  11. কৃষি
  12. ক্যাম্পাস
  13. খেলাধুলা
  14. গল্প ও কবিতা
  15. চাকরির খবর

ঈশ্বরদীতে দুই দিনেও উদ্ধার হয়নি কলেজ শিক্ষক স্ত্রী হাজেরা খাতুন হত্যা রহস্য

প্রতিবেদক
আমাদের ঈশ্বরদী রিপোর্ট :
এপ্রিল ৫, ২০২৩ ১:১৯ অপরাহ্ণ

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক প্রয়াত মোহাম্মাদ হবিবুল্লাহ’র স্ত্রী হাজেরা খাতুন হত্যার রহস্য গত ২ দিনেও উদ্ধার হয়নি। গ্রেফতারও হয়নি কেউ। তবে হত্যার রহস্য উৎঘাটনের অনেকগুলো বিষয়ের দিকে নজর দিয়ে রহস্য উৎঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ। এর আগে সোমবার (৩ এপ্রিল) ইফতারের পুর্বে ঈশ্বরদী ইপিজেড মোড়স্থ নিজবাড়িতে রহস্যজনকভাবে হত্যার শিকার হন হাজেরা খাতুন (৭৬)। গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহতের আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশিরা জানান, অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক মোহাম্মাদ হবিবুল্লাহ এর মৃত্যুর পর নিহত হাজেরা খাতুন একাই ইপিজেড মোড়স্থ নিজবাড়িতে থাকতেন। তাঁর ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে রয়েছে। দুই মেয়ে বিদেশ ও অন্যরা ঢাকায় বসবাস করেন। মাঝেমধ্যে ঢাকায় ছেলে মেয়েদের নিকট থাকতেন। আবার নিজ বাড়িতেও থাকতেন। তাঁকে দেখভাল করার জন্য সময় সময়ের জন্য একজন নারী ও একজন পুরুষ গৃহকর্মী রাখা ছিলো।

সূত্র মতে, ঘটনার দিন সকালে নিহত হাজেরা খাতুনকে প্রতিবেশিরা নিজ বাড়ির সামনে বাগানের ভিতর ঘুরতে দেখেন। সন্ধ্যায় নিহতের ছেলে মেয়েরা মোবাইল ফোনে তাঁদের মা হাজেরা খাতুনকে না পেয়ে তাঁরা প্রতিবেশিসহ তাঁদের মামা হবিবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইফতারের পর তাঁরা হাজেরার বাড়িতে এসে বাহির থেকে দরজায় তালামারা দেখেন। পরে তালা ভেঙ্গে কক্ষে ঢুকে তাঁরা মেঝেতে কাপড়ে ঢাকা রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

থানা সূত্র জানায়, নিহত হাজেরা খাতুনের হত্যার রহস্য উৎঘাটনের জন্য বাড়ির গৃহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনার থেকেই ওইসব সন্দেহভাজনদের মোবাইল ফোনের সিমগুলো বন্ধ রয়েছে। তবে হত্যা ও এলোমেলো করে রাখা ঘরের আলমারিসহ আসবাপত্রে আলামত দেখে মনে হচ্ছে ঘরে স্বর্ণালংকারসহ নগদ অর্থ আছে এরুপ ভেবে সেগুলো লুট করতেই হত্যাকারীরা একা থাকা হাজেরা খাতুনের কক্ষে প্রবেশ করে। তাদের লুটপাটে বাধা দিতে গিয়েই হয়তবা হাজেরা খাতুন নির্মম হত্যার শিকার হয়ে থাকতে পারেন।

নিহতের ছোট ভাই পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম হব্বুল জানান, আমার বোন হাজেরা খাতুন ও ভগ্নিপতি অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক মোহাম্মাদ হবিবুল্লাহ ইপিজেড মোড়স্থ নিজ বাড়িতে থাকতেন। কোথাও গেলে দুজন এক সঙ্গে যেতেন। ভগ্নিপতি হবিবুল্লাহ’র মৃত্যুর পর তাঁর বোন বাহিরে তেমন একটা বের হতেন না। জানামতে তাঁর সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিলো না। তারপরও কেনো তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো তা বোধগম্য নয়। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের পর মরদেহ গতকাল মঙ্গলবার বাড়িতে আনা হয়েছে। বিকেলে দাফনের পর মামলা দায়েরের জন্য থানায় যাওয়া হয়।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, পুলিশের সিরাজগঞ্জ ক্রাইমসিন থেকে প্রাপ্ত নমুনা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে প্রশাসনের কয়েকটি ইউনিট নিরলস ভাবে কাজ করছে। ক্রাইমসিন থেকে প্রাপ্ত নমুনা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যার সময় কারা ওই বাড়িতে উপস্থিত ছিলো এবং কারা যাতায়াত করতো এবং তাদের সঙ্গে কাদের যোগাযোগ হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ব্যাপারে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

সর্বশেষ - ঈশ্বরদী

error: Content is protected !!