তুমি ভুল পথে আছো, ফিরে আসো: জঙ্গি ছেলের উদ্দেশে মা

অনলাইন ডেস্কঅনলাইন ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৪৭ PM, ০৯ নভেম্বর ২০২২

আব্বু… যদি তুমি আমার ম্যাসেজ পেয়ে থাকো, বলতে চাই, তুমি চরম একটা ভুল পথে আছো। তুমি তোমার মাকে বিশ্বাস করতে পারো। তোমার কাছে আমার অনুরোধ, তুমি যদি কখনও তোমার এই মাকে ভালোবেসে থাকো, তাহলে তুমি দেশের জন্য কোনো ধরনের হুমকির কাজ করবে না, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নৃশংসতা, অন্যায় কাজে শামিল হবে না। আমি অনুরোধ করছি, তুমি আত্মসমর্পণ করো। প্রশাসন সদয় হবেন।
কথাগুলো বলছিলেন সাবেক বিমান ক্রু পাহাড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে নিখোঁজ রাইয়ান ওরফে আবু বক্করের মা আম্বিয়া সুলতানা এমিলি।

বুধবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এমিলি।
এর আগে র‌্যাব জানায়, তার ছেলে আবু বক্কর ওরফে রিয়াসাত রাইয়ান গত মার্চ মাসে নিরুদ্দেশ হন। এ ঘটনার পর তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। গত ৩ নভেম্বর অভিযানে র‌্যাব সংগঠনের মহিলা শাখা সম্বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। জানতে পারে, একজন মা উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হন এবং তার সন্তানকে প্রশিক্ষণের উদ্দেশে তথাকথিত হিজরতের নামে পাঠিয়েছেন।

একসময় ছেলেকে জঙ্গিবাদে ঠেলে দিয়েছিলেন। ‌‌কিন্তু এখন তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। আট মাস সন্তানের দেখা না পেয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন এমিলি। ছেলের সন্ধানে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
আম্বিয়া সুলতানা এমিলি বলেন, ‘আমি দেশবাসীর উদ্দেশে বলতে চাই, আমি যে ভুল করেছি, আমার বুকটা যেভাবে খালি হয়েছে, সেই একই ভুল যেন কোনো বাবা-মা না করেন। আমি শিক্ষিত মেয়ে হয়েও শেষ হয়ে যাচ্ছি। আমার পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ। আমার খাওয়া ঘুম সব হারাম হয়ে গেছে।’

রাইয়ানের মা বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, চরম ভুল একটা পথকে সঠিক মনে করে সন্তানকে দিয়েছিলাম। এ কারণে আজকে আমার আদরের সন্তান বান্দরবানের পাহাড়ে অর্ধমৃত অবস্থায় আছে। আমি জানি না আমার সন্তান বেঁচে আছে কি না? জানি না আমি কখনও দেখতে পাবো কি না? এটা আমার মা হিসেবে চরম ব্যর্থতা। শিক্ষিত মেয়ে হয়েও আমি বুঝতে পারিনি। আমার কোরআন-হাদিসের দক্ষতা কম ছিল। আমি বুঝতে পারিনি সঠিক কোনটা ভুল কোনটা। আমাকে ডিমটিভেটেড করা হয়েছে। আমার সন্তান আবু বক্কর রিয়াসাদ রাইয়ানকেও করা হয়েছে। আমাকে মিসগাইড করা হয়েছে।’

জঙ্গিবাদে জড়ানো সন্তান রিয়াসাদ রাইয়ানকে উদ্দেশ্য করে মা এমিলি বলেন, ‘তোমার বাবা অনেক অসুস্থ হয়ে গেছে। আমি খুব ভয় পেয়ে গেছি, যদি তার কিছু হয়ে যায়। তোমার নানা-নানি সবার অবস্থা খারাপ। তোমার কাক্কু, আত্মীয়-স্বজন সবাই পাগলপ্রায়। আমার মা হিসেবে, তোমার বাবার জন্য চরম ব্যর্থতা হবে যদি তুমি বিশৃঙ্খলা করো, নৃশংস কিছু করো। তুমি তোমার বাবা-মাকে অপমানিত করো না। এই দেশে জন্ম নিয়ে তুমি অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছো।’
মা হিসেবে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে এমিলি বলেন, ‘আমি শিক্ষিত মা হিসেবে অনুরোধ করছি, বাবা-মা হিসেবে সন্তানকে সময় দেবেন, বুকে জড়িয়ে ধরবেন, ভেতরটা জানার চেষ্টা করবেন। ভালোবাসবেন। প্রতিদিন জানবেন। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, অবহেলা করবেন না। সে ছিটকে যেতে পারে যেকোনো সময়, তখন আমার মতো বুক ভাসিয়ে আর কোনো লাভ হবে না। সন্তানের মনটা বুঝুন। মা-বাবা যখন সত্যিকারের বন্ধু হতে পারে তখন সবকিছু শেয়ার করে, কাছে যেতে পারে। সন্তান হিসেবে অসহায় বোধ করবে না। বিপথে চলে যাবে না। সকল বাবা-মাকে বলছি, সংশোধন হোন, নইলে নিজেও ধ্বংস হয়ে যাবেন, জাতিও ধ্বংস হয়ে যাবে।’

এ সময়ে এমিলি তার সন্তানকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্র্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, আমাদের ছোট ছোট সন্তানেরা পাহাড়ে না খেয়ে কীভাবে আছে। ওরা তো ঘরেই ছিল, মায়ের বুকে ছিল। ওরা ওখানে কীভাবে বাঁচবে। ওরা নিজেও জানে না কোথায় তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওদের ফিরিয়ে আনুন, ওদের সুযোগ দিন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার, মায়ের বুকে ফিরে আসার। ওদের উদ্ধার করুন।’

আপনার মতামত লিখুন :