গেমের নেশায় আসক্ত ঈশ্বরদীর তরুণ-তরুণীরা

‘টিকটক’ সেলিব্রেটি

আমাদের ঈশ্বরদী রিপোর্টআমাদের ঈশ্বরদী রিপোর্ট
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৫৬ PM, ০১ জানুয়ারী ২০২২


শাহিনুর রহমান বাঁধন


এই তো কয়েক বছর আগেও পাড়া-মহল্লা, স্কুল-কলেজ, থানা-পত্রিকা সব জায়গায় প্রধান বিষয় ছিল ‘ইভটিজিং’। এখন আলোচিত দুইটি শব্দ ‘টিকটক’ ও গেইম। ঈশ্বরদীতে ‘ইভটিজিং’ কারণে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে অনেক। হয়েছে মানবন্ধনসহ নানা কর্মসূচি। সময় বদলেছে কিন্তু বিবেক বদলায়নি। বদলেছে কেবল বিবেকের রঙ। সভ্যতা থেকে ক্রমেই অসভ্যতায় নিজেদের জাহির করছে তরুণ-তরুণীরা। এই স্রোতে পিছিয়ে নেই ঈশ্বরদীর তরুণ-তরুণীরাও।

মন যা চাই, তাই এখন হাতের মুঠোয়, হতে মোবাইল থাকলে যে কোন অসম্ভবকে সম্ভব করা মুহুর্তের ব্যাপার মাত্র। তথ্য আদান প্রদানে মোবাইল ফোন বদলে দিয়েছে শহর ও গ্রামের মানুষের জীবন। পৃথিবীতে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে মোবাইল কার্যত বিপ্লব ঘটিয়েছে। এই ডিভাইস কয়েক সেকেন্ডেই পৃথিবীর এক প্রান্তের খবর অন্যপ্রান্তে পৌঁছে দেয়।

আধুনিক সমাজ ও বিজ্ঞানের বদৌলতে বলতে গেলে মোবাইল মানুষের যাপিত জীবনের অতিপ্রয়োজনীয় একটি অংশ হয়ে গেছে।
পকেটে টাকা না থাকলেও মোবাইলে ইন্টারনেট চলছে হরদম। কিন্তু অতিপ্রয়োজনীয় মোবাইলের অপব্যবহার দেশের নতুন প্রজন্মকে যেন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আগে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকান্ডে ছাত্রছাত্রী, তরুণ-তরুণীদের মেধার বিকাশ ঘটত। এখন স্কুল-কলেজ-মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দিনে এবং রাতে বেশিরভাগ সময় সাইবার ক্যাফেতে গেম এবং অশ্লীল সাইটগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করে ব্যস্ত থাকে। হাট-মাঠ-ঘাট, রাস্তার মোড়, গলিপথ এমনকি বাসা-বাড়িতেও দেখা যায় নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, গেইম খেলে। ছেলেমেয়েরা মোবাইলে আসক্ত হওয়ায় পারিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাতে সম্পর্ক গড়ে উঠা, এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে পরস্পরের দেখা-সাক্ষাৎ কমে গেছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৫ মাস ধরে বন্ধ থাকার কারণে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসাপড়ুয়া
ছাত্রছাত্রীদের মোবাইলে সময় কাটানো সেই নেশা এখন সবকিছু খুলে দেওয়ার পরেও দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঈশ্বরদীতে ইদানিং ‘টিকটক’ ও গেইম নেশায় আশাক্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ফেসবুক খুলেই কিছু তরুণীদের ‘টিকটক’ ভিডিও চোখে পড়ে, যার কথা এবং অঙ্গভঙ্গি অসভ্যতায় ভরপুর। এই কারণে তার এবং তার পরিবারের সম্মান নষ্ট হচ্ছে। তরুণদের দেখা যায় ব্যস্ত রাস্তায় চলাচলের সময়ও গেইম খেলতে। গেইম খেলায় এতটাই মগ্ন যে চলন্ত গাড়ি তাকে ধাক্কা কি দেবে, সে নিজেই চলন্ত গাড়িকে ধাক্কা দিতে যাচ্ছে। আবার কিছু অতি উৎসাহি অভিভাবকরা তাদের ছোট্ট শিশুটিকে দিয়েও ‘টিকটক’ বানাতেও দেখা গেছে।

মোবাইলে আসক্ত যে তরুণ-তরুণীরা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে, আগামীতে দেশ গড়তে তাদের মস্তিষ্ক কি স্বাভাবিকভাবে কাজ করবে? এখন এর প্রভাব বোঝা না গেলেও কয়েক বছর পর নেতিবাচক প্রভাব প্রকট হয়ে ধরা দেবে। কি করছেন আপনি, আমি? কি করছে আপনার সন্তান (আগামী প্রজন্ম)। নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন।

পরিশেষে বলতে চাই, প্রযুক্তি আমাদের লেখাপড়া, জীবনযাপন খুব সহজ করে দিয়েছে। কিন্তু তার অপব্যবহার করে নিজে এবং সমাজের ক্ষতি করছি আমরা প্রতিনিয়ত। নিজের মধ্যে যদি আপনার কোন প্রতিভা থাকেই থাকে তা যদি ‘টিকটক’ এর মাধ্যমে প্রকাশ করতেই চান, করুন। সেটা অন্য সাংস্কৃতির ছোয়ায় অসভ্যতায় কেন। সমাজ এবং জাতি যেন উপকৃত হয় এমন কিছু করুন।

লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

আপনার মতামত লিখুন :